গবেষণা

রাশিয়ায় সামরিক পণ্য রফতানিতে দাম বাড়িয়েছে চীন

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ সামরিক শিল্পে চীননির্ভরতা বেড়েছে।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ সামরিক শিল্পে চীননির্ভরতা বেড়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটিতে যুদ্ধসংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে দাম বাড়িয়েছে চীনা ব্যবসায়ীরা। নতুন এক গবেষণায় এমন একটি তথ্য উঠে এসেছে। খবর এফটি।

ফিনল্যান্ডের গবেষণা সংস্থা ব্যাংক অব ফিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জিং ইকোনমিস (বোফিট) পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২১-২৪ সাল নাগাদ চীন থেকে রাশিয়ায় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত পণ্যের দাম গড়ে ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। একই ধরনের পণ্যের অন্য দেশে রফতানিতে মূল্য বেড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ।

পশ্চিমাদের চাপ অগ্রাহ্য করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ মাত্রায় ইউক্রেনে আক্রমণ করে রাশিয়া। তখন থেকে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে মস্কো। গবেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর যে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতে মস্কোর জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক পণ্য কেনা কঠিন হয়ে গেছে। ফলে চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে খরচও।

একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, ‘রুশ সামরিক সরবরাহ লাইন সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য। তবে চীনা কোম্পানিগুলোর রাশিয়ার কাছে বেশি দামে পণ্য বিক্রিও এক ধরনের ইতিবাচক ফলাফল।’

তার মতে, যদি কোনো পণ্যের দাম ৮০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে রাশিয়া সেই পণ্য আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণে কিনতে পারবে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন আইকা কোরহোনেন ও হেলি সিমোলা। এতে তারা মূলত মেশিনারি অ্যান্ড মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস খাত বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো অন্তর্ভুক্ত।

তাদের মতে, পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানি আরো ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়ায় চীনের রফতানির মোট বাজারমূল্য বাড়লেও পণ্যের পরিমাণ কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, চীনা বল-বিয়ারিংয়ের রফতানি মূল্য ২০২১-২৪ সালের মধ্যে ডলারের হিসাবে ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে রাশিয়ায় আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ।

অবশ্য রাশিয়ায় যুদ্ধ সরঞ্জাম রফতানিতে শুধু চীনই দাম বাড়ায়নি। তুরস্ক থেকে রফতানীকৃত নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের দাম ২৫-৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গবেষণায় ১৪টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম ২০২১-২৪ সালে ৭৫ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে অন্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল।

আরও